গত মাসের শেষ দিকে ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র। শুল্কের এ বাধা এড়াতে আগাম রফতানির কারণে আগস্টে বেশ সরগরম ছিল ভারতীয় বন্দরগুলো। ওই মাসে দেশটির পণ্য রফতানি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৫১০ কোটি ডলারে পৌঁছে। খবর দ্য হিন্দু।
আগস্টে ভারতের রফতানি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে রত্ন ও গহনা শিল্প, প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য। দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শুল্কের প্রভাব এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পণ্য আগাম রফতানি হয়েছে। তবে বার্ষিক হারে বাড়লেও আগের কয়েক মাসের তুলনায় আগস্টে রফতানিতে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, আগস্টে রফতানি বৃদ্ধির গতিতে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে ২ হাজার ৬৪৯ কোটি ডলারে নেমেছে, যা গত বছর একই সময় ছিল ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি ডলার। একই সময়ে আমদানি ১০ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ৬ হাজার ১৫৯ কোটি ডলারে নেমেছে। এর আগে জুলাইয়ে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার।
আগস্টে ভারতের আমদানি হ্রাসের প্রধান কারণ ছিল স্থানীয় স্বর্ণের বাজারে স্থবিরতা। গত মাসে ৫৪০ কোটি ডলারের স্বর্ণ আমদানি করে দেশটি, যা গত বছরের একই সময়ের ১ হাজার ২৫৫ কোটি ডলারের চেয়ে ৫৬ শতাংশ কম।
ভারতের বাণিজ্য সচিব সুনীল বার্থওয়াল বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ভারতের রফতানি ভালো হয়েছে। সরকারের নীতি ফলপ্রসূ হয়েছে, এটিই তার প্রমাণ।’
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে ৬৮৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এটি জুলাইয়ের ৮০০ কোটি ডলার রফতানির তুলনা কম। চলতি মাস থেকে মার্কিন শুল্কের পুরো প্রভাব রফতানিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ৭ আগস্ট থেকে বেশির ভাগ ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছিল। এরপর ২৭ আগস্ট সে শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করে রুশ জ্বালানি তেল ক্রয় অব্যাহত রাখায় ভারতের ওপর বাড়তি এ শুল্ক প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ইইপিসি ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান পঙ্কজ চাডা বলেন, ‘মার্কিন শুল্কের কারণে প্রকৌশল খাত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রকৌশল পণ্য রফতানি জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।’
দেশটির রফতানিকারকদের সংগঠন এফআইইও বলছে, শুল্ক বৃদ্ধিজনিত পতন ঠেকাতে সরকারকে এমএসএমই সমর্থন বাড়াতে হবে এবং রফতানি প্রণোদনা সময়মতো দিতে হবে। এতে ভারতীয় পণ্য বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম থাকবে।
এছাড়া আগস্টে ভারতের আরব আমিরতা, নেদারল্যান্ডস ও চীনে রফতানি বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, এপ্রিল-আগস্ট ভারত থেকে পণ্য রফতানি ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ১৮ হাজার ৪১৩ কোটি ডলারে পৌঁছায়। এ সময় আমদানির আকার ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৬৫২ কোটি ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২৩৯ কোটি ডলার।